পরীক্ষামূলক
২৩ মে ২০১৩, বৃহ:পতিবার ০৪:২৮ এএম
  • অন্যান্য সংবাদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ কি কথা!
রিমান্ডের নামই কি সুশাসন!
খালেদা হাসিনার ঝাপিতে সাপতত্ত্ব শফিক রেহমান
উহ্! এত্তো বোঝা!
বিশ্বের দরিদ্রতম ত্যাগী প্রেসিডেন্ট
সত্ পরামর্শে কেন ওদের গায়ে জ্বালা ধরে
এত কাছে কত দূরে
পুলিশের ভেতরেও জামায়াত আছে?
সমস্যার শেষ কোথায়
বিদেশ ঘোরেন দীপু মনি
আড়াই শ’ গ্রামের বাংলাদেশ
হাইকোর্টের রায়ে যার সংসদ সদস্যপদ ...
যাদের নতুন চ্যানেল দিয়েছেন তারা টাকা পেলেন কোথায়?
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে সংকট আরও গভীর হলো// সরকার ও জোটে অস্বস্তি
ভাঙা নৌকায় নতুন মাঝি তুলে লাভ নেই : কাদের সিদ্দিকী
মন্ত্রী আবুল হোসেন ও মাননীয় স্পিকার
বিএনপি’র জন্ম ও বাংলাদেশে সৃজনশীল রাজনীতির উন্মেষ
দুর্বল নেতৃত্ব রাষ্ট্রে বিপর্যয় ডেকে আনে
পুলিশ না ক্রিমিনাল? বদরুদ্দীন উমর
আবুল হোসেন ও সুরঞ্জিতকে দুদকের সত্ চরিত্রের সার্টিফিকেট প্রদান : কলঙ্কের আরেক নাম দুদক`
  • শীর্ষ সংবাদ
পদ্মা সেতু প্রকল্প: সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এডিবি বিশ্বব্যাংক অধ্যায় সমাপ্ত
অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন : পরাভব মানিনি, মানি না মানব না : প্রধানমন্ত্রী
নোবেল পুরস্কারের জন্য মালালার নাম প্রস্তাব
সিরিয়া প্রশ্নে ইরান-রাশিয়াকে হিলারির হুঁশিয়ারি
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১১, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি ‘গেরিলা’র জয়জয়কার
ঢাকা-মস্কো সম্পর্কে নতুন মাত্রা
মালিতে সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না - ফ্রান্স
সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের গোপন পুলিশ বাহিনী মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ
সাগর চরে হিম দেশের পাখি
মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত তুরাগ তীর
আবার সুযোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ
আবারও শৈত্যপ্রবাহের কবলে দেশ!
দিল্লিতে ফের গণধর্ষণ ধর্ষিতার অর্ধনগ্ন লাশ!
আজ লক্ষাধিক শিক্ষক জাতীয়করণের ঘোষণা
র‌্যাব পরিচয়ে বিএনপি নেতা অপহরণ, হাতকড়া পরা লাশ উদ্ধার
দুনিয়া কাঁপানো ৭ নীল নয়না
মেয়াদের শেষ বছরে সরকার
৩০ বিদেশি গোয়েন্দা ড্রোন হটিয়ে দিল ইরান
আ’লীগের কমিটি ঘোষণা প্রেসিডিয়ামে নাসিম, লেনিন, বাদের তালিকায় মখা, রাজু
  • বাবা, পুলিশ দেখলে হর্ন দেবে!

কাজের যতো অতলেই ডুবে থাকি না কেন, মেয়ের সংগে যোগাযোগটা রক্ষা করি। দিবা-রাত্রি ১০/১২ বার কথাতো হবেই। আমার দিক থেকে যেমন ফোন যায়, তেমনি ওর তরফ থেকেও আসে। বেশিরভাগ ফোনের প্রতিপাদ্য আবদার বা বায়না। পেন্সিল থেকে শুরু করে কাঁচা আমের আবদার। আর খুনসুটিতো আছেই।

ইদানিং ওর তরফ থেকে ফোন বেশি আসতে শুরু করেছে। এক কল থেকে আরেক কলের দূরত্ব কমছে। প্রতিবার ফোন করেই জানতে চায়- বাবা তুমি কোথায়, ভাল আছো, অফিসের বাইরে যাওনি তো? যদি বলি অফিসেই আছি তাহলে মেয়ে আমার স্বস্তি পায়। আর যদি বলি বাইরে আছি, তাহলে বলে,``পুলিশ নিয়ে কোনো রিপোর্ট করো না বাবা। ওদের সংগে ঝগড়া করো না।`` জানতে চাই, ``কেন?`` উত্তর আসে, ``দেখছো না ওদের হাতে কতো আংকেল মার খেলো। বাবা পুলিশতো সাংবাদিকদের ধরে ধরে পেটাচ্ছে। তুমি ওদের কাছে যেও না।``

মেয়েকে বলি, ``পুলিশ তো আমাদের বন্ধু।`` মেয়ের উত্তর, ``বন্ধু বুঝি বন্ধুকে পেটায়?`` প্রতিউত্তর খুঁজে না পেয়ে প্রসংগ পাল্টাই। কিন্নরী, মানে আমার মেয়ের মধ্যে আতংকের বীজ ঢুকেছে সেদিন থেকে, যেদিন চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে পুলিশের হাতে নিগৃহীত হয়েছিলেন ফটো সাংবাদিকরা। কিন্নরী তখন বেশ ছোট। ওর মা ফটো সাংবাদিক। তাই পুলিশ যখন খেলার মাঠে সাংবাদিকদের লাথি মারছিল, তখন টিভিতে সেই ছবি দেখে কিন্নরী কেবল বলতে পেরেছিল, ``মা, পুলিশ তোমাদের মারছে কেন?``

এরপর ও আরো খানিকটা বড় হয়ে দেখেছে গিয়াস মামাকে (দেশ টেলিভিশনের গিয়াস আহমেদ) কিভাবে পিটিয়েছে তেজগাঁও থানাপুলিশ। এছাড়া চলতে-ফিরতে পথে ঘাটে দেখেছে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরও কিংবা ওর মায়ের হাতে ক্যামেরা দেখার পরেও পুলিশের চোখ রাঙানি এবং হয়রানি। আর গত ক`দিনেই মধ্যেই দেখতে পেলো আগারগাঁও এবং আদালতপাড়ায় সাংবাদিকরা কিভাবে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হলো।

পত্রিকা এবং টেলিভিশনে নির্যাতনের ছবি দেখে কিন্নরী এখন রীতিমতো আতংকিত। ওর মাকেও বলছে ক্যামেরা যেন ভুল করেও পুলিশের দিকে তাক না করে।  কেবল যে মা-বাবাকে নিয়েই সে উদ্বিগ্ন তা নয়। সব সাংবাদিক মামা-খালাদের নিয়েও ভয়ে আছে। পুলিশের সংগে রিপোর্টারদের দেখলেই ও আমার উপর ক্ষেপে যাচ্ছে, ``বাবা কেন পুলিশের কাছে পাঠালে ওদের? `` সেটা যে টেলিভিশনের রিপোর্টারই হোক। আমি বলি খবর জোগাড় করতে হলে পুলিশের কাছে তো যেতেই হবে। কিন্নরীর উত্তর শুনে থমকে যাই, ``বাবা ওরা খবর দেবার লোভ দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে মারতে পারে। আমি ওকে বোঝাই, `` মা, পুলিশ তো আমাদের নিরাপত্তা দেয়। আমাদের যদি কোনো বিপদ হয় তখন তো পুলিশ এসেই আমাদের রক্ষা করবে। দুষ্ট লোকদের ধরবে।`` কিন্তু আমি বুঝি ভুলেই গিয়েছিলাম  মেয়ে আমার পত্রিকা পড়তে শিখেছে। টিভির খবরও দেখে নিয়মিত। ওকে কিভাবে ফাঁকি দেবো? ও যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর টিপসটিও জেনে গেছে। তাই কিন্নরীও আবদার করছে, যে পথে পুলিশ আছে সেই পথে যাওয়া যাবে না। দূরে থাকতে হবে।

ওর আরো মজার আবদার হচ্ছে,  ``বাবা, পুলিশ দেখলে হর্ন বাজাবে?`` শুনে তো আমি অবাক--`` হর্ন কেন বাবা?`` মেয়ের উত্তর: ``কেন দিনাজপুর যাওয়ার  সময় দেখোনি ট্রাকের পেছনে লেখা থাকে ১০০ হাত দূরে থাকুন। হর্ন বাজান।  সাংবাদিকরা তো আর হর্ন বাজাতে পারবেনা বাবা, সবাইকে বাঁশি কিনতে বলো। পুলিশ দেখলেই বাঁশি বাজাবে।`` কিন্নরীর ভয় তাড়াতে বললাম, ``মা, এখন আর ভয় নেই, দেখোনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- পুলিশ আগের চেয়ে অনেক ভাল হয়েছে।``

কিন্নরী হেসে উঠলো। বললো, ``বাবা, তুমি আমার সংগে দুষ্টুমি করছো!``

লেখক: তুষার আবদুল্লাহ, বার্তাপ্রধান ও পরিচালক: সময় টেলিভিশন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত উইনার মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশনস ২০১১-২০১২