|
|
|
-
বাদলা দিনের স্বাস্থ্য কথা
ঝিরঝির বরষায় মন হয়ে পড়ে আকুল। সারি কদম ফুল যেন আনন্দগীত গাইতে থাকে। তবে এ সময় শরীর নামের মহাশয়কেও ঠিক রাখতে হবে বইকি, নইলে এ সৌন্দর্য অবগাহন করার সুযোগটাই মাটি হয়ে যাবে।বর্ষার আনুকূল্য আর নগরের সৌন্দর্যবর্ধনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের মহিমায় আজকাল অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। কিন্তু তাই বলে তো ঘরে বসে থাকা যায় না। জীবন ও জীবিকার তাগিদে ডাস্টবিনের ময়লায় একাকার এ নোংরা পানি পাড়িয়েই কাজে বের হতে হয়। এ পানি থেকে বিভিন্ন চর্মরোগ ফাঙ্গাসজনিত প্রদাহ, অ্যাকজিমা ইত্যাদি হতে পারে। তাই বাইরে থেকে ঘরে এসেই গরম পানি আর সাবান দিয়ে শরীর বিশেষ করে পা ভালোভাবে ধুতে হবে। বর্ষায় চর্ম রোগ বিশেষ করে দাদ বেশি হয়। দাদ হলে আক্রান্ত স্থানে গোলাকার চাকার মতো দাগ দেখা যায়। গোল দাগের পরিধিতে দেখা যায় এবং দাগের পরিধি উঁচু বর্ডার লাইন আকারে থাকে।চুলকালে আক্রান্ত স্থান থেকে কষ ঝরতে থাকে। বর্ষার আরেকটি ছত্রাকজনিত চর্মরোগ হলো ক্যানডিডিয়াসিস। এতে ত্বকের আক্রান্ত স্থান একটু লালচে ধরনের হয়, সঙ্গে পুঁজ চুলকানিও থাকে। এসব চর্মরোগের চিকিৎসা নির্ভর করে আক্রান্ত স্থান ও রোগের তীব্রতার ওপর। ক্যানডিডিয়াসিসের ক্ষেত্রে কেটোকোনাজলও ফ্লুকোনা জন্ম ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে দাদের ক্ষেত্রে উলি্লখিত দুটি ওষুধের যে কোনো একটির সঙ্গে গ্রাইসিসি ও ফুলভিন ব্যবহার করতে হবে।বর্ষকালে চুল হয়ে পড়ে নিস্তেজ। তবে নিয়ম করে যত্ন নিলে চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব। বর্ষায় ভেজা চুল অাঁচড়াবেন না; এতে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। বৃষ্টিতে ভিজলে অবশ্যই বাড়িতে ফিরে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এ সময় সপ্তাহে তিনবার শ্যাম্পু করবেন। শ্যাম্পু করার আগে তেল গরম করে পুরো চুলে ম্যাসাজ করুন। খুশকি বর্ষাকালের এক প্রধান সমস্যা। খুশকির সমস্যা থাকলে মাথায় তেল লাগানো বন্ধ করুন। এর বদলে পাতিলেবুর রস ও নারিকেল তেল সমপরিমাণে মিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে রাখুন। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। বর্ষায় চুলে কন্ডিশনার না ব্যবহার করাই ভালো। আর খেয়াল রাখবেন ভেজা চুল কখনো যেন বাঁধ না থাকে। এতে চুলের গোড়া গন্ধ হয়ে চুল পড়ে যায়।বর্ষায় পানিবাহিত রোগ যেমন ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস ইত্যাদি হতে দেখা যায়। এসব রোগ খাবার থেকে হয়। তাই এ সময় রাস্তার ধারের ফলের রস, শরবত, লাচ্ছি ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে হবে। বর্ষায় পান ফুটিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। সাধারণত পানি যখন ফুটতে শুরু করে, এরপরও আধঘণ্টা চুলায় রাখলে তা বিশুদ্ধ হবে।বর্ষায় রোদ-বৃষ্টির খেয়ালিপনায় শিশুর নানা রকম অস্বস্তি হয়। এ সময় শিশু যদি বৃষ্টিতে ভেজার বায়না ধরে তবে তাকে সেটা থেকে বিরত রাখতে হবে।এছাড়া স্কুল থেকে ফেরার পথে বা খেলতে গিয়ে শিশু কোনো কারণে বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বাড়িতে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তার মাথা ও শরীর ভালো করে মুছিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে বৃষ্টিহীন দিনে যখন আবহাওয়া খানিকটা গরম হয়ে ওঠে, তখন শরীরে যেন ঘাম বসে না যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। প্রায়ই দেখা যায়, বর্ষার রাতে ঠা-া কিংবা গরমে শিশুর বুকে ঠা-া বসে যায়। কাজেই আপনার শিশুর মধ্যেও যদি এ জাতীয় সমস্যা দেখা দেয় তাহলে রাতে ঘুমানোর সময় তার বুকের ওপর হালকা কোনো কাপড় রাখতে হবে। সেই সঙ্গে রাতে ঘুমের মধ্যে শিশু অত্যধিক পরিমাণে ঘেমে যাচ্ছে কিনা সেটিও খেয়াল করতে হবে। এ সময় শিশুর জ্বর হলে প্যারাসিটামল সিরাপ এবং কাশি হলে সালবিউটামল সিরাপ বয়স অনুযায়ী খাওয়াতে হবে। বর্ষায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ শুরু হয়। হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। এ রোগ প্রতিরোধে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা যেন বিস্তার লাভ করতে না পারে, সে জন্য ছাদের জলাধারে ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে অব্যবহৃত টিন বা প্লাস্টিকের কৌটা, ডাবের খোসা, টায়ার ইত্যাদি ফেলে দিতে হবে। মনে রাখবেন, বর্ষারও একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। তাই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে বর্ষাকালকে উপভোগ করার চেষ্টা করুন।লেখক : চর্ম, যৌন, অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ১২, আল রাজী হাসপাতালফার্মগেট, ঢাকা।
|
|
|
|