অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বিশ্বব্যাংক যেভাবে চুক্তিটি বাতিল করেছে, তা যথাযথ হয়নি। বিশ্বব্যাংক যে বিজ্ঞপ্তিটি দিয়েছে, তাতে বাংলাদেশকে অপমান করা হয়েছে। তারা যে অপবাদটি দিয়েছে, তার যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
গতকাল সোমবার পদ্মা সেতুর ঋণ বাতিল নিয়ে সংসদে লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যে কোনো মুহূর্তে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাংক অসমর্থিত বা অসম্পূর্ণ অভিযোগের ভিত্তিতে একটি দেশকে এভাবে অপবাদ দিতে বা সে দেশের জনগণের মর্যাদাহানি করতে পারে না। বিশ্বব্যাংক আমাদের সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করতে চেয়েছে। আমার কাছে এটি অপমানজনক মনে হয়েছে। আমি মনে করি, সম্ভাব্য দুর্নীতিকে বিশ্বব্যাংক ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতি পরিহারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। এ বক্তব্য সঠিন নয়।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক তার মেয়াদকালে বিষয়টির সুরাহা করার উদ্দেশে অপরিণামদর্শী একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিপর্যস্ত করেছে। আমি সবসময়ই আশাবাদী মানুষ এবং আমার বিশ্বাস, বিশ্বব্যাংক সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবে। অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত এবং বিজ্ঞপ্তি বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমি মনে করি।’
বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছিল। এর মধ্যে রয়েছে— যেসব সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে এসএনসি-লাভালিন কর্মকর্তার ডায়েরির ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের ছুটি দেয়া। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ তদন্তের জন্য বিশেষ টিম গঠন। তদন্তের সব বিষয় বিশ্বব্যাংক নিয়োজিত একটি প্যানেলকে অবহিত করা ও তাদের উপদেশ গ্রহণ করা। এ প্রস্তাব মেনে নেয়ার অর্থ হলো, কোনো কিছু প্রমাণিত হওয়ার আগেই দুর্নীতির অপরাধ স্বীকার করে নেয়া। সে জন্য তাদের প্রস্তাবে রাজি না হয়ে আমরা বিভিন্ন উপায়ে তাদের উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করি।’
স্পিকারের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুদক সেতু নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বিবেচনার বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংকে পাঠায়। তারা এ দরপত্র গ্রহণ ও মূল্যায়নে কোনো দুর্নীতির আলামত পায়নি বলে তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। বিশেষ করে এ দরপত্র মূল্যায়নে অভিযুক্ত সাকো কোম্পানির কোনো সম্পৃক্ততা তাদের তদন্তে প্রতিভাত হয়নি বলে তারা জানায়। বিশ্বব্যাংক তখন এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানের জন্য দুদককে পরামর্শ দেয়।
এ অর্থবছরই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করা হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো মুহূর্তে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসব বলে আমি আশা রাখি।’