-
পাহাড়ে শান্তিচুক্তি ও ভূমি কমিশন বাস্তবায়নে জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক বলে উল্লেখ করে পার্বত্য ভূমি কমিশনের কাজকে এগিয়ে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “চুক্তির অনুযায়ী পাহাড়িদের যে অধিকার রয়েছে তা আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই।”
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার রাঙামাটিতে চাকমা সার্কেলের হেডম্যানদের সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়কালে এ আহ্বান জানান।
রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগত হেডম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ-উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, পার্বত্য সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল, চাকমা সার্কেলের চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের পুনর্বাসন ও যারা অস্ত্রসমর্পণ করেছে তাদেরকে বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের বিগত সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক ছিল না।”
প্রধানমন্ত্রী হেডম্যান ও কার্বারিদের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে বলেন, “জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্কেল, মৌজা প্রধানদের ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করেন।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে হেডম্যান, কার্বারিদের ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়।”
এ সময় রাঙামাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা।
ভিডিও কনফারেন্স শেষে হেডম্যানদের সমস্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক দু’দিনের অবহিতকরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ড. মশিউর রহমান।
রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চিং কিউ রোয়াজার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, পার্বত্য সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল, সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ২৭৬ হেডম্যান উপস্থিত ছিলেন।
|