-
সিরিয়ায় বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি ইরানের
সিরিয়ায় বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। তারা বলেছে, সিরিয়ায় বিদেশী হামলা হলে সে লড়াই ইসরাইলকে গ্রাস করবে। ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার আলী লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ওই অঞ্চলের দেশগুলোকে অভিযুক্ত করে বলেন, তারা বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার লড়াই করছেন। গতকাল তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা’কে বলেন, সিরিয়া আগুন জ্বলছে। এই আগুনের ভয় ইসরাইলকেও করতে হবে। তুরস্ক, কাতার এবং সৌদি আরব সিরিয়া বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে। ওদিকে সিরিয়ায় অপহৃত ৪৮ জন ইরানি নাগরিকের ভিডিও ফুটেজ দুবাইভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল আরাবিয়ায় দেখানো হয়েছে। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে সিরীয় বিদ্রোহীরা তাদের ধরে রেখেছে। ইরান বলেছে, এরা তীর্থযাত্রী ছিলেন। কিন্তু সিরীয় বিদ্রোহীদের দাবি অপহৃত দলটি ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড বাহিনীর সদস্য। যারা প্রেসিডেন্ট আসাদের সমর্থনে যুদ্ধ করতে এসেছে। ওদিকে সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহীদের সরাতে প্রায় ২০ হাজার সরকারি সেনা ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও বিমানের সাহায্যে অভিযান চালাচ্ছে। শনিবার অস্ত্রধারীরা ৪৮ ইরানিকে অপহরণ করে। এদের মুক্ত করার জন্য সহযোগিতা করতে ইরান সিরিয়ার বিদ্রোহীদের দুই মিত্র তুরস্ক ও কাতারকে অনুরোধ করেছে। কাতার ও তুরস্ক বলছে, বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাদের যতটুকু যোগাযোগ আছে তা ব্যবহার করে অপহৃতদের মুক্ত করার চেষ্টা চালাবে তারা। ইরান বলছে, এরা তীর্থযাত্রী। স্থানীয় একটি মাজার থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে তাদের অপহরণ করা হয়েছে। মুখোশধারী একজন ভিডিওচিত্রে বলছেন, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় তারা ৪৮ জন সাবিহাকে আটক করেছেন। যারা ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ডের সদস্য। এরা বেসামরিক পোশাকে সিরিয়ায় এসেছে ও রেভ্যুলেশনারি গার্ডের পক্ষ হয়ে কাজ করছে। ইরান চলমান সঙ্কটে সিরিয়াকে সমর্থন করে আসছে। তবে সিরিয়ার ভেতরে তাদের কোন সেনা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন ইরানি নেতারা। এদিকে আলেপ্পোয় সংঘর্ষ চলছে। সরকারি বাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও বিমানের সাহায্যে হামলা করছে। রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলা হচ্ছে সরকারি বাহিনী অনেক সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। আত্মসমর্পণ করেছে অনেকে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, বিদ্রোহীরাও তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে সমানতালে শহরের বিভিন্ন মহল্লায় জোরালো অবস্থান নিয়েছে। লড়াই আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় লোকজন শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। দামেস্কেও তুমুল লড়াই চলছে।
সরকারি বাহিনী বলছে, তারা বিদ্রোহীদের শেষ ঘাঁটিটি পুনর্দখল করে নিয়েছে। বিদ্রোহীরাও বলছে তারা শহরের শেষ ঘাঁটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
|