-
বঙ্গোপসাগরে চলছে মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের মহাযজ্ঞ
বঙ্গোপসাগরের প্রবাল ঢেউয়ের তোড়ে বিবস্ত্র হয়ে মশারির জালের দড়ি হাতে রেনু পোনা আহরণে ব্যস্হ শিশু মাসুদ (১০),রবিউল (৯),আলী হোসেন (৭) ও ইয়াকুব (১০)। তারা প্রত্যেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। দু’মুঠো খাবারের তাগিদে লেখাপড়া ছেড়ে কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার চরগঙ্গামতিসহ সৈকতের অর্ধশতাধিক পয়েন্টে চিংড়ির রেনু সংগ্রহ করতে ব্যস্হ সময় কাটাচ্ছে। তাদের সবারই কথা মোগো শখ লাগে স্কুলে যাইতে ল্যাহাপড়া করতে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় বাড়ছে শিশু শ্রম, ধবংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাশাপাশি বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসম্য। প্রশাসনের চোখের সামনে এ রকম মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের মহাযজ্ঞ ও শিশু শ্রমের সংখ্যা বাড়লেও কোন প্রকার পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছেনা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সৈকতের বিশাল এলাকাজুড়ে বর্তমানে চলছে গরীব লোকদের জীবিকার কথা বলে চিংড়ি পোনা সংগ্রহের নামে অন্য প্রজাতির পোনা ধরে তা দেদারছে ধবংস করে ফেলার দৃশ্য। বিশেষ করে সৈতকের লেম্বুরচর,আন্ধারমানিক মোহনা, শিববাড়িয়া খাল, কম্পিউটার সেন্টার, শুটকি পল্লী, নারিকেল বিথি, ঝাউবন, ফরেস্ট অফিস,গঙ্গামতি, ধোলাই মার্কেট, কাউয়ার চর, রামনাবাদ মোহনা ,কাটাবাড়ানিসহ ফাতরার চর ও সোনারচর রাঙ্গাবালীর বিশাল সমুদ্র সৈকতের অর্ধশতাধিক পয়েন্টে দিনে রাতে চলছে চিংড়ি পোনা সংগ্রহের নামে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের নাসকতা। পোনা আহরনকারীরা এক ধরনের মশারির জাল বা ঘন ফাঁসের নেট ব্যবহার করায় পোনা বের হতে পারে না। প্রতিদিন চিংড়ির পাশাপাশি জালে ধরা পড়ছে শত শত প্রজাতির মাছের পোনা। পোনা আহরনকারীরা শুধু চিংড়ির পোনা রেখে অন্য প্রজাতির পোনা পানিতে না ফেলে মাটিতে ফেলে প্রত্যক্ষ নিধনে লিপ্ত হয় তারা। প্রশাসনের কোন তৎপরতা না থাকায় শত শত নারী-পুরুষ, স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়তি আয় বা দু’মুঠো খাবারের ব্যবসস্হা করার জন্য তারা পোনা ধরার কাজ করেন।
কুয়াকাটার সৈকতে রেনু পোনা আহরনের নিয়োজিত শিশু মাসুদের সাথে আলাপ করলে জানায়, বাপে সাগরে মাছ ধরতে গিয়া গেল বছর মারা গেছে। ক্লাস ফোর পর্যন্ত- লেখাপড়ার পর ৫ জনের সংসার তার আয়ে দু’মুঠো খাবারের যোগান হয়ে বলে মাসুদ স্বীকার করেছে।
বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড কলাপাড়ার নিজামপুর শাখার পেটি অফিসার মো.শামসুর রহমান জানান, কোষ্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বুধবার আন্ধারমানিক মোহনা ও শিববাড়িয়া খালে অভিযান চালিয়ে শত শত মিটার নেট জাল ও কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, মৎস্য বিভাগ,কোষ্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর সদ্যস্যদের যৌথ অভিযানে সাগর ও বিভিন্ন প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে অবৈধ হাজার হাজার ঘনফুট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এখনও এদের সমন্বয় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুয়াকাটা সী-বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী জানান, কলাপাড়া মৎস্য অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে চিংড়ি পোনা যাতে না ধরতে পারে।এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীদের অভিবাবকদের সচেতন করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দিবেন বলে তিনি জানান।
|