-
মাহফুজুর রহমান গ্রেফতার হচ্ছেন না কেন, প্রশ্ন ইকবাল সোবহানের
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, “সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেছেন তার কাছে ভিডিও ফুটেজসহ অনেক প্রমাণ আছে। এরপরও কোন অর্থ-ক্ষমতার প্রভাবে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না?”
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। মাহফুজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং যশোরে সাংবাদিক জামাল হত্যার খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে সাংবাদিক নেতারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র আরেক সভাপতি নেতা রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব শওকত মাহমুদ ও আবদুল জলিল ভূঁঞা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আব্দুস শহিদ ও ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা প্রমুখ।
ইকবাল সোবহান বলেন, “সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে প্রশাসন যখন ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে ঠিক তখনই এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান এগিয়ে এসেছেন। বলেছেন, তার কাছে প্রমাণাদি আছে। কিন্তু এখনো তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না এবং তিনি নিজেও প্রমাণগুলো উপস্থাপন করছেন না।”
তিনি বলেন, “আগামী ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে সাংবাদিকদের পদযাত্রার আগেই মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিতে হবে। না হলে আগামী রোববার সাংবাদিকরা আবারো প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন।”
এই সাংবাদিক নেতা বলেন, “মাহফুজুর রহমান তারই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা সাংবাদিক মেহেরুন রুনির আত্মার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন। রুনি সম্পর্কে যে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তাকে প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণে ব্যর্থ হলে তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।”
গত ৩০ মে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে ‘সাগর-রুনি পরকিয়ার বলি’ উল্লেখ করে বক্তব্য দেন মাহফুজুর রহমান।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, “দেশের জন্য সাংবাদিকরা অতীতেও জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তাদের অবদান ছোট করে দেখা যাবে না। আমরা ভেবেছি, সাগর-রুনির খুনিদের বিচারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তা হচ্ছে না।”
“বাংলার মাটিতে একজন সাংবাদিক জীবিত থাকলেও খুনিদের বিচারের আন্দোলন চলবে। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটাতে পারবে না।” হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
“মাহফুজুর রহমান নিজেই স্বীকারোক্তি দেয়ার পরও যদি তাকে গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব সরকারের কোনো একটি মহল এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত” বলেন রুহুল আমিন গাজী।
শওকত মাহমুদ বলেন, “সাংবাদিকদের স্বাধীনতা বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না। সাংবাদিকরা খুন হয়ে যাওয়ার পরও তাদের চরিত্র নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। আমরা আইন-আদালতের কাছেও আশ্রয় পাই না।”
তিনি বলেন, “রাস্তায় দাঁড়িয়ে জনগণের কাছেই যদি বিচার চাইতে হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমরা খুনিদের বিচারের আওতায় আনবো।”
বক্তারা যশোরের সাংবাদিক জামাল উদ্দিনসহ এ পর্যন্ত খুন হওয়া সব সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবি করেন।
গত ১৫ জুন রাত ১১টার দিকে শার্শার কাশীপুর বাজারে সন্ত্রাসীরা জামাল উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার পর একটি চোখ তুলে নেয়। তিনি যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক গ্রামের কাগজের প্রতিনিধি ছিলেন। তার বাড়ি সীমান্তবর্তী কাশীপুর গ্রামে। শার্শা প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তিনি হত্যার শিকার হন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, তারা সাগর-রুনির খুনিদের বিচারসহ সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন এমন সময়ে আরেকজন সাংবাদিক খুন হলেন। এটি মেনে নেয়া যায় না।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু।
|