|
|
|
-
আদালত ও সেনা হুমকি উপেক্ষা মিসরে বিলুপ্ত সংসদের অধিবেশন
মিসরের সর্বোচ্চ আদালত ও সামরিক পরিষদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই গতকাল দেশটির বিলুপ্ত সংসদের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন বসে। এদিকে মিসরের সংসদ বিলুপ্ত করার বিতর্কিত রায়ের প্রতিবাদে গতকাল কায়রোয় ১০ লাখ লোকের সমাবেশ করেছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুড।
মিসরের সুপ্রিম কনস্টিটিউশনাল কোর্ট (এসসিসি) ও সর্বোচ্চ সামরিক পরিষদ (স্কাফ) নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে পার্লামেন্ট বিলোপ করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে সতর্ক করার পরও তিনি এর তোয়াক্কা করেননি। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই পার্লামেন্ট অধিবেশন করার আদেশ দেন মুরসি। গতকাল সংসদের অধিবেশন চলে প্রায় আধঘণ্টা।
সোমবার থেকেই সামরিক পুলিশ কায়রোর পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে রেখেছিল কিন্তু গতকাল তারা সরে যাওয়ার ফলে এমপিরা পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকতে কোনো বাধা পাননি। সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে পার্লামেন্টের স্পিকার সাদ আল কাতাতনি বলেন, ‘এমপিরা রায়ের বিরোধিতা করছেন না। বরং কীভাবে সম্মানিত আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা হবে—তা ভেবে দেখছে। আজ আর অন্য কোনো আলোচ্য বিষয় নেই।’
স্পিকার বলেন, ‘এই পার্লামেন্ট বিচারপতিদের রায়ে কোনো বাধা দেবে না বা সেই রায় নিয়ে কোনো আলোচনাও করবে না; বরং আমরা বরাবরই আদালতের রায়কে মর্যাদা দিয়ে এসেছি। আমি আবারও এ কথা জোর দিয়ে বলতে চাই—আজ আমরা যা নিয়ে আলোচনা করছি, সেটা হলো এই রায় কোন পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা যায়। আইনের শাসনের যে সর্বময় কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতার ভাগাভাগির যে ব্যবস্থা, সেই নীতিকে স্বীকৃতি দিয়েই আমরা এ পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
সুপ্রিমকোর্টের রায় কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়—সে ব্যাপারে পার্লামেন্টকে উচ্চ আপিল আদালতের কাছ থেকে আইনি পরামর্শ চাওয়ার প্রস্তাব দেন স্পিকার। এমপিরাও এ প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এরপরই অধিবেশন মুলতবি করা হয়। গত মাসে মিসরের পার্লামেন্ট অসাংবিধানিক বলে রায় দেয় সুপ্রিমকোর্ট। এ রায়ের বদৌলতে পার্লামেন্ট ভেঙে দেয় সামরিক পরিষদ।
রোববার এক ডিক্রির মাধ্যমে পার্লামেন্ট বিলুপ্তির ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। মুরসির আদেশের সূত্রে স্পিকার গতকাল পার্লামেন্টের ওই অধিবেশন ডাকেন। ডিক্রি জারির পরপরই প্রেসিডেন্টের জারি করা ডিক্রি প্রত্যাখ্যান করে সুপ্রিমকোর্ট। সেনাবাহিনী থেকেও প্রেসিডেন্টের আদেশের বিরোধিতা করা হয়।
এ ঘোষণাকে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের জন্য সেনাবাহিনীর চ্যালেঞ্জ বলেই মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু সে চ্যালেঞ্জও উপেক্ষা করলেন মুরসি। তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, আপাত দৃষ্টিতে সেনাবাহিনী এবং আদালতের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট মুরসি ও তার রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক বৈরী বলে মনে হলেও এর ফলে বড় ধরনের কোনো সংঘাতের আশঙ্কা নেই। প্রত্যেকেই তাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।
গত ৩০ জুন মুরসি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিসরের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করেন। বিলুপ্ত নির্বাচিত পার্লামেন্টেও মুসলিম ব্রাদারহুড সদস্যদের আধিপত্য ছিল। আদালতের ওই বিতর্কিত রায়ের প্রতিবাদে গতকাল কায়রোর স্বাধীনতা চত্বরে (তাহরির স্কয়ার) ১০ লাখ লোকের সমাবেশ হয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রাদারহুড।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ সপ্তাহের শেষেরদিকে মিসর সফর করবেন। গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা গত ক’দিন ধরে দেখছি যে, মিসরের গণতন্ত্রে উন্নয়নে আরও অনেক কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রের মানে হলো নাগরিকদের ক্ষমতায়ন, যাতে তারা নিজেরাই দেশের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি ও সিএনএন
|
|
|
|