|
|
|
-
পুঁজিবাজার: প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের পর সূচক কমেছে ১০০০ পয়েন্ট
লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে দেশের পুঁজিবাজার ফিরে গেছে চার বছর আগের অবস্থানে। এর আগে ধারাবাহিক দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া উদ্যোগের পর দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে এক হাজার পয়েন্টের বেশি।
২০১০ সালের ভয়াবহ ধ্বসের পর বিনিয়োগকারীদের অব্যাহত আন্দোলনের পর ২০১১ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। এরপর তার নির্দেশে ২১ নভেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। ওইদিন ডিএসইতে সাধারণ মূল্যসূচক ছিল পাঁচ হাজার ৩২২ পয়েন্ট। সেই প্যাকেজ ঘোষণার সাত মাস পর এসে গত বৃস্পতিবার মূল্যসূচক এক হাজার ২২ পয়েন্ট কমে চার হাজার ৩০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১১৮ কোটি টাকা। এর আগে ২০০৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এর চেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল। সেদিন লেনদেন হয় ১১৬ কোটি টাকা।
গত ৭ জুন পুঁজিবাজারের প্রণোদনায় কোনো কাটছাঁট ছাড়ায় বাজেট প্রস্তাব দেয় অর্থমন্ত্রী। এরপর সবার প্রত্যাশা ছিল ঘুরে দাঁড়াবে বাজার পরিস্থিতি। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের পর দুই দিন সাধারণ মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে। আর বাকি সব কার্যদিবসে সূচক ছিল নিম্নমুখী।
তবে এত হতাশার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য আশার কথা হলো এসইসি’র ২ সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা পরিচালকদের সব ক’টি রিট খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। এতে এসইসি’র প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পরিচালকদের দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক হলো। এখন যাদের ন্যূনতম শেয়ার নেই তাদের শেয়ার কিনতে হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাজারে যে তারল্য সঙ্কট রয়েছে কিছুটা হলেও সেটা কাটবে। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
এদিকে, অব্যাহত দরপতরনের প্রতিবাদে এবং অর্থমন্ত্রী ও এসইসি’র চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গোটা সপ্তাহ জুড়ে ডিএসই’র সামনে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
গত সপ্তাহে লেনদেন কমেছে পাঁচ দশমিক ৬৩ শতাংশ। লেনদেন হওয়া ২৭৩টি ইস্যুর মধ্যে অধিকাংশের দর কমেছে। কমার তালিকায় রয়েছে ২৫২টি, বেড়েছে ১৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি। ডিএসই সাধারণ মূল্যসূচক গত সপ্তাহের চেয়ে ৩২০ পয়েন্ট কমে চার হাজার ৩০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজার মূলধন কমেছে চার দশমিক ৮১ শতাংশ।
|
|
|
|