|
|
|
-
দামেস্কে তীব্র লড়াই : নিহত ৭২ : মস্কোয় কফি আনান
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সরকারি বাহিনীর ওপর তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে বিদ্রোহীরা। হামলার পর সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের ভয়াবহ লড়াই শুরু হয়, যাকে স্থানীয়রা এ পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র লড়াই বলে দাবি করেছেন। সোমবার ভোররাতে হামলা শুরুর পর থেকে দু’পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড লড়াই চলছিল। লড়াইয়ে ৭২ নিহত ও কয়েক ডজন লোক আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, রোববার রাত নামার পর শহরের দক্ষিণ এলাকা থেকে লড়াই নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে জাতিসংঘ ও আরব লিগের শান্তি দূত কফি আনান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিরিয়া বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য মস্কো গেছেন। সিরিয়ার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য অংশীদার রাশিয়া সেখানে অস্ত্র বিক্রি না করার অঙ্গীকার করেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ বাড়ানোর চেষ্টায় বাধা দিয়ে আসছেন পুতিন। রয়টার্সের পক্ষ থেকে দামেস্কের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সারারাত সাইরেনের শব্দ ও বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দসহ টানা গুলিবর্ষণের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। আসাদের বিরুদ্ধে গত ১৭ মাসের আন্দোলন-বিদ্রোহে এ লড়াইটিকেই তীব্রতম বলে বর্ণনা করেছেন তারা। ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচার করা ভিডিওতে দামেস্কের আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডুলী দেখা গেছে। সরকারি বাহিনী বিমানবন্দরে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
লড়াইয়ের কাছাকাছি অবস্থান করা এক বাসিন্দা টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‘এত কাছে শব্দ হচ্ছে যে, আমি তা বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি গুলির শব্দসহ বিস্ফোরণের মতো আরও বিভিন্ন শব্দ শুনতে পাচ্ছি। তীব্র শব্দের ভেতর অ্যাম্বুলেন্স আসা-যাওয়া করছে। আমার খুব ভয় করছে। অনেক লোক মারা যাবে। দামেস্ক থেকে সামির আল সামি নামের এক আন্দোলনকারী জানিয়েছেন, দক্ষিণ দামেস্কের আল তাদামোন এলাকায় লড়াই চলছে।
শনিবার রাত নামার পর নিকটবর্তী হাজরে আল আসওয়াদ এলাকায় লড়াই শুরু হয়ে সারারাত ধরে চলে বলে জানান তিনি। এরপর রোববার রাতে তাদামোন এলাকায়ও লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। শহরের দক্ষিণ এলাকার দিকে সরকারি বাহিনীর সাঁজোয়া যান এগিয়ে আসছে আর তীব্র লড়াইয়ের কারণে এলাকার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক আন্দোলনকারী জানিয়েছেন, ‘আমরা এখানে দৌমার মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা করছি। শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় কয়েক হাজার বিদ্রোহী যোদ্ধা ছড়িয়ে আছে। অনেকে নিহত হলেও বেশিরভাগ যোদ্ধাই পালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এদের নির্মূলে সরকারি বাহিনী ভয়াবহ আক্রমণ চালাবে বলে ধারণা করছি আমরা।’ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। খবরের জন্য বিভিন্ন উেসর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জাতিসংঘের হিসাবমতে, গত ১৭ মাস ধরে চলা সিরিয়ার সহিংসতায় ১৫ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য সিরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার চেষ্টা করছে। অথবা সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও বলেছে। সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ রাশিয়ার নেয়া অবস্থানের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করায় পশ্চিমাদের সমালোচনা করেন।
|
|
|
|