|
|
|
-
১৭০ জন জ্যেষ্ঠ জেলা জজকে ডিঙিয়ে নতুন আইনসচিব
তিনি কনিষ্ঠ জেলা জজ। আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও নেই। তবু ১৭০ জন জ্যেষ্ঠ জেলা জজকে ডিঙিয়ে তাঁকেই করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব। তাঁর নাম আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক।
এই নিয়োগের ফলে প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের লঙ্ঘন ঘটেছে। এ ঘটনায় দেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেন, আইনসচিব নিয়োগে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি।
সর্বশেষ হালনাগাদ করা জেলা জজদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় নতুন আইনসচিবের ক্রমিক ৩৮৩। বর্তমানে পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ ১৬ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রায় ১০০ জন জেলা জজ রয়েছেন। আইনে জ্যেষ্ঠতমদের মধ্য থেকে মেধা ও যোগ্যতা যাচাই করে আইনসচিব নিয়োগের শর্ত রয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান জহিরুল হক। এমনকি তাঁর এলএলএম ডিগ্রি নেই।
হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ১৭ জানুয়ারি ২০১১ বিচারিক অদক্ষতার কারণে জহিরুল হককে তিরস্কার করেন। কারণ, তিনি অকারণে এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। তারিক সিদ্দিক নামের ওই ব্যক্তি দুই মাস আগে বিনা দোষে ছয় বছর জেল খেটে ছাড়া পান।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে জহিরুল হককে নিয়োগ দেওয়ায় সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০০১ সালের নীতিমালা এবং ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের রায়ের লঙ্ঘন ঘটেছে। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ না নিয়ে এর আগে তিনজন জেলা জজকে একইভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনসচিব করা হয়। কিন্তু তাঁরা জ্যেষ্ঠ জেলা জজ ছিলেন। এবারই প্রথম সর্বকনিষ্ঠকে রাজনৈতিক বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্টকে না জানিয়ে আইনসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাড়ে তিন বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে তিনি উপসচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি উপসচিব পদে থেকেই বিধিবহির্ভূতভাবে যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের চলতি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
|
|
|
|