|
|
|
-
হারের বৃত্তেই মুশফিক বাহিনী
জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের বোঝা যেন বেড়েই চলছে। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও কোচ স্টুয়ার্ট ল’র প্রথম মিশনে যে দুঃস্বপ্নের বীজ বুনে এসেছিলেন তা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নয়া কোচ রিচার্ড পাইবাসও। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-২০ ম্যাচে তৃতীয় পরাজয়। সেই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ত্রিদেশীয় টি-২০ টুর্নামেন্টে টানা চারবার পরাজয়ের স্বাদ পেলো বাংলাদেশ। টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ উইকেট হারিয়ে ২১০ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয়। জবাব দিতে নেমে মুশফিক বাহিনী ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৭০ রান। ফলে বরণ করে নিতে হয় ৩৯ রানের পরাজয়। এই পরাজয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা অনেক ক্ষীণ হয়ে গেল। অপর দু’দলের জয়-পরাজয়ের সমীকরণের ওপর নির্ভর করতে হবে। প্রথম খেলাতেও বাংলাদেশ ১১ রানে হারে জিম্বাবুয়ের কাছে। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ১৮টি আন্তর্জাতিক টি-২০ খেলেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের করা ২০৩/৫ ছিল সর্বোচ্চ। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট আইসিসি’র স্বীকৃত হলে আরেকটি রেকর্ডে নাম থাকতো দক্ষিণ আফ্রিকার।
দীর্ঘদিন পর সাকিব ও তামিমকে ছাড়া খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ২০৯ রানের জবাবে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। ইনজুরির কারণে বাংলাদেশের অন্যতম ওপেনার তামিম ইকবাল গতকাল খেলতে পারেননি। তার পরিবর্তে তরুণ আনামুল হক বিজয়ের ওপর আস্থা রাখেন কোচ। মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে ওপেনিং করতে নামেন তিনি। কিন্তু তার প্রতি আস্থার সুবিচার করতে পারেননি আনামুল। ৫ বলে এক রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ওয়ানডাউনে নামানো হয় ফর্মে থাকা জহুরুল ইসলামকে। তাকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান আশরাফুল। কিন্তু দলীয় ৪৮ রানের সময় ৩১ বলে ৩৩ রান করা আশরাফুলও ফিরেন সাজঘরে। এরপর দ্রুত জহুরুল ইসলাম অমি ১২ ও নাসির হোসেন শূন্য রানে সাজঘরে ফিরলে ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেট হারিয়ে ৫৪ রান। হতাশায় যখন সবাই আচ্ছন্ন তখন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। ৫ম উইকেট জুটিতে ৬১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলের স্কোরকে সম্মানজনক পর্যায়ে নিয়ে যান। ১৫.২ ওভারে দলীয় ১১০ রানের সময় ২৩ বলে ৩৪ রান করে মাহমুদুল্লাহ আউট হলে অসময়ে অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের জ্বলে ওঠা থামে। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৮ বলে ১০০ রান। এরপর মুশফিকের অসম্ভবকে সম্ভব করার লড়াই শুরু হয়। সঙ্গে ছিলেন জিয়া। তিনিও ১০ বলে ১৮ রান করে রানআউট হন। কিন্তু অধিনায়ক ৩২ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে অপরাজিত থাকেন। কিন্তু তার এই লড়াইয়ে এড়ানো যায়নি জিম্বাবুয়ের মাটিতে আরেকটি দুঃস্বপ্নের পরাজয়। টি-২০ বিশ্বকাপের এ ম্যাচ বাংলাদেশের মনোবল কতটুকু বাড়াবে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। গতকাল টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হাশিম আমলা। ওপেনিংয়ে নেমে আমলা ও সমপ্রতি সেরা তরুণের পুরস্কার পাওয়া লেভি বাংলাদেশের বোলারদের ওপর রীতিমতো চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন। ২১ বলে লেভি করেন ৩৭ রান। জিয়ার বলে তিনি আউট হলেও হাশিম আমলা থেমে থাকেননি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। ৫৩ বলে ৮৮ রান করেন আমলা। আর তার সঙ্গে ইনগ্রাম ২৯, মরকেল ২২ ও ডুমিনি অপরাজিত ২৩ রান নিয়ে দলের স্কোর দু’শ’ পার করিয়ে নেন। হাশিম আমলার সামনে অসহায় ছিল বাংলাদেশের বোলাররা। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পেস বোলার মাশরাফি ৪ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। তরুণ পেসার আবুল হাসান ৪ ওভার বল করে কোন উইকেট নিতে না পারলেও রান উপহার দিয়েছেন ৫৮। অভিজ্ঞ স্পিনার আব্দুর রাজ্জাকও ২ ওভারে ২৮ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেটশূন্য। আরেক স্পিনার ইলিয়াস সানি ৪ ওভার বল করে ৩১ রান দিয়ে একটি উইকেটের মুখও দেখেননি। শুধু ব্যতিক্রম জিয়াউর রহমান ও মাহমুদুল্লাহ। বোলারদের মধ্যে বলা যায়, জিয়া ছিলেন খানিকটা সফল। বল হাতে পাঁচ বছর পর জাতীয় দলের হয়ে নিয়েছেন তিন ওভারে ২৮ রানের খরচায় ১ উইকেট। এছাড়াও বেশ কৃপণ ছিলেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ৩ ওভার বল করে কোন উইকেট না পেলেও দিয়েছেন ১৭টি রান। বাংলাদেশের পরের খেলা আগামীকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আজ স্বাগতিকরা খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টসঃ দক্ষিন অফ্রিকা (ব্যাট)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ২০৯/৩ (হাশিম আমলা ৮৮(৫৩ বল, ৪ক্ম৯, ৬ক্ম৩), লেভি ৩৭ ,(২১, ৪ক্ম৬, ৬ক্ম২), ইনগ্রাম ২৯ (২২), জিয়াউর রহমান ১/২৮)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৭০/৮ (মুশফিকুর রহিম ৫০ (৩২, ৪ক্ম৫, ৬ক্ম১), মাহমুদুল্লাহ ৩৪ (২৩, ৪ক্ম২, ৬ক্ম২) আশরাফুল ৩৩ (৩১,৪ক্ম৪), রবিন পিটারসন ২/১৬, লাঙ্গে ২/৩৩)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৯ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরাঃ হাশিম আমলা।
|
|
|
|