|
|
|
-
সোহেল তাজ অবশেষে রেহাই পেলেন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় এবার নিজে ঢাকায় এসে স্পিকারের দফতরে তার সামনেই সংসদ সদস্য পদের পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করলেন তানজিম আহমেদ (সোহেল তাজ)। ফলে স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের আর তা গ্রহণ না করে কোনো উপায় ছিল না। কম্পিউটারে কম্পোজ করা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পিকার তা গ্রহণ করেছেন বলে সমকালকে জানান স্পিকারের একান্ত সচিব জয়নাল আবদীন। গতকাল রাতেই প্রজ্ঞাপন জারি করতে এ বিষয়ে সংসদ সচিবকে নির্দেশনা দিয়েছেন স্পিকার। ফলে আজই এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সোহেল তাজ স্পিকারের জাতীয় সংসদের কার্যালয়ে আসেন এবং সেখানেই পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন। পরপর দুটি সংসদের সদস্য ছিলেন তিনি। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় স্পিকারের দফতরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পদত্যাগপত্রে সোহেল তাজ সংবিধানের ৬৭/২ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে আজ স্পিকার জাতীয় সংসদকে সোহেল তাজের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ সম্পর্কে অবহিত করবেন। এর আগে ২৩ এপ্রিল সোহেল তাজ তার সহকারীর মাধ্যমে স্পিকারের কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে এ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। 'কার্যপ্রণালি অনুসারে বৈধ' হয়নি উল্লেখ করে স্পিকার তখন সে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। পরে ৯ মে স্পিকার সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন। সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার আগে সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদও ত্যাগ করেন; কিন্তু তার সেই পদত্যাগপত্রও তখন গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু এখন তার প্রতিমন্ত্রিত্বের ভাগ্যে কী হবে সে প্রশ্নও নতুন করে সামনে চলে এসেছে।
গতকাল সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেই সোহেল তাজ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে তার বাসভবন গণভবনে যান। সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে তিনি গণভবনে যান বলে জানিয়েছেন সোহেল তাজের ব্যক্তিগত সহকারী আবু কাওসার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সোহেল তাজ তার পদত্যাগের কথা অবহিত করেন। এ ঘটনার পর বেশ কয়েকবার সোহেল তাজের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও
ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি সোহেল তাজের বোনের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। ৩০ জুন প্রায় এক বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় আসেন সোহেল তাজ। মায়ের অসুস্থতার কারণেই মূলত ঢাকায় আসেন তিনি। ঢাকায় আসার পর গত ক'দিন গণমাধ্যম এমনকি আত্মীয়-স্বজনকেও এড়িয়ে চলছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ।
সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ায় গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনটি শূন্য হবে। এ সংক্রান্ত গেজেট হওয়ার পর সংসদ নির্বাচন কমিশনের কাছে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানাবে। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হন সোহেল তাজ। এর আগে ২০০১ সালে অষ্টম সংসদেও একই আসন থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হন।
পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ায় এখন তিনি সাধারণ নাগরিকের সবুজ পাসপোর্ট গ্রহণ করার বিষয়ে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠরা।
সংসদে সোহেল তাজ :অষ্টম সংসদে বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সোহেল তাজ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম সংসদেও নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের মে মাস পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার আগে পর্যন্ত সংসদে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর থেকে আর সংসদে তাকে তেমন একটা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, চলতি সংসদে এ পর্যন্ত ৩১৬ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র ৮৩ কার্যদিবস সংসদে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে সর্বশেষ গত বছর ৩০ জুন বাজেট অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। ওইদিন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এরপর থেকে টানা ৮২ কার্যদিবস আবার সংসদে অনুপস্থিত তিনি।
প্রথম থেকেই প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় এ সংসদ থেকে কোনো বেতন-ভাতা নেননি সোহেল তাজ। এমনকি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সরকার তাকে দফতরবিহীন প্রতিমন্ত্রী করে। কোনো সংসদীয় কমিটিরও সদস্য নন তিনি।
এর আগেরবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে সোহেল তাজের নামে একটি খোলা চিঠি আসে। ওই খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, সম্মান রক্ষায় সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করা ছাড়া তার আর কোনো বিকল্প ছিল না। ওই বার্তায় তিনি তার পরিবার ও রাজনৈতিক জীবনের নানাবিধ ঘটনার খোলামেলা বর্ণনা দেন। সরাসরি না বলেও ওই ই-মেইল বার্তায় সোহেল তাজ বলেন, সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসার আপাতত কোনো সম্ভাবনাও নেই তার। তবে আওয়ামী লীগই তার শেষ ঠিকানা। এ দলটির সঙ্গে তার বাবার রক্ত মিশে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেও তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন সোহেল তাজ। তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই টেলিফোনে এবং ঢাকায় ফিরেও কাপাসিয়ার ভোটারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন সোহেল তাজ।
তখন খোলা চিঠিতে গাজীপুরের কাপাসিয়ার জনগণের উদ্দেশে সোহেল তাজ বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে তাকে অনেক চিন্তা-ভাবনা করতে হয়েছে। তবে কাপাসিয়ার মানুষের সম্মান রক্ষায় তার সামনে এর বিকল্প ছিল না।
পরে সমকালকেও দু'দফায় দুটি সাক্ষাৎকার দেন সোহেল তাজ। দুটি সাক্ষাৎকারেই তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে তিনি আর থাকবেন না। তবে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কিছু চিন্তা করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। একসময় তিনি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করার অভিযোগও সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেন।
এর আগে অষ্টম সংসদের মাঝপথে ক্ষমতাসীন বিএনপির এমপির পদ ত্যাগ করেন আবদুল মান্নান এবং মাহী বি চৌধুরী। এর আগে সপ্তম সংসদে কাদের সিদ্দিকী পদত্যাগ করেন। আর পঞ্চম সংসদে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতের এমপিরা একযোগে পদত্যাগ করলেও তৎকালীন স্পিকার তা গ্রহণ করেননি।
|
|
|
|