১০ শতাংশ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এতে করপোরেশনের আয় বাড়বে ১৯০ কোটি টাকা। তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে এক শহরে দুই নীতি কার্যকর হতে যাচ্ছে।
জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যমান বাড়ি ও ভবনের ওপর ১২ শতাংশ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স আরোপিত রয়েছে। এর ওপর আরও ১০ শতাংশ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হবে। যেসব বাড়িঘর, বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট নতুন নির্মিত হয়েছে এবং পুরনো বাড়ি সম্প্রসারিত হয়েছে সেসব নতুন বাড়ি ও সম্প্রসারিত অংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স বসানো হবে। গত অর্থবছর হোল্ডিং ট্যাক্স খাতে ডিএসসিসির আয় ছিল ৭৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এ খাত থেকে ২৬৫ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও যুগ্ম সচিব মনিরুজ্জামান হোল্ডিং ট্যাক্স ১০ শতাংশ হারে বাড়ানোর কথা স্বীকার করে বণিক বার্তাকে বলেন, দীর্ঘদিন হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন না হওয়ায় ডিসিসি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক টিনের চালার ঘর দু-তিন তলাবিশিষ্ট ভবন হয়ে গেছে। দু-তিন তলা ভবন এখন বহুতল ভবন হয়ে গেছে। তাই সময়ের চাহিদা মেটাতে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হচ্ছে।
সূত্র জানায়, উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে অনেকটা চুপিসারে রাজধানীর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে উভয় সিটি করপোরেশনের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন। এ জন্য এক মাসের মধ্যে পরিদর্শনপূর্বক অবকাঠামোর পরিবর্তন বা সম্প্রসারণ ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ট্যাক্স ধার্যের কার্যক্রম হালনাগাদ করার জন্য প্রতিটি অঞ্চলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে নগরবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাত্ক্ষণিক সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তবে গত ৫ জুলাই ঘোষিত বাজেটে ডিএসসিসি ১০ শতাংশ ট্যাক্স বাড়ানোর পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।
হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের জন্য ডিসিসির সচিব আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের সভাপতি করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে দিয়েছেন। কমিটিতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতিটি অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী, উপকর কর্মকর্তা, রেভিনিউ সুপারভাইজারকে সদস্য করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রশাসক জিল্লার রহমান জানান, জানুয়ারি থেকেই তত্কালীন প্রশাসক ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন শুরুর কথা বলেছিলেন। কিন্তু এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় প্রক্রিয়াটি আর এগোয়নি। তবে এখন আবার সম্প্রসারিত অংশে হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব সংস্থার সেবার মূল্য বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে নগরীর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়বে না কেন?
এদিকে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ঢাকা ভাড়াটিয়া উন্নয়ন সোসাইটি। সংস্থাটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বাড়ির মালিকরা এরই মধ্যে কয়েক দফা বাড়িভাড়া বাড়িয়েছেন। হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর ফলে রাজধানীতে বাড়িভাড়া আরেক দফা বাড়বে। এতে নতুন করে ঢাকা শহরে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাজেটের ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য বিধানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে চেষ্টা করলেও আয় বাড়ানোর আর কোনো উত্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে।