: সিরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধ বিমান এবং হেলিকপ্টার গানশিপ সহযোগে আসাদ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আলেপ্পো শহরে অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দামেস্কেও তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সহিংসতা বৃদ্ধি পাবার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সেখানে যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা করছেন। এদিকে সিরিয়া নিয়ে সাধারণ পরিষদের নিন্দা প্রস্তাবকে বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থনের শামিল বলে উল্লেখ করে রাশিয়া এর তীব্র সমালোচনা করেছে। এ প্রস্তাব কফি আনানের শান্তি প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেও রাশিয়া উল্লেখ করেছে। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আসাদ বাহিনীর অভিযানের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব পাসের পরপরই আলেপ্পোতে নতুন করে অভিযান চালানো হয়েছে বলে স্কাই নিউজ জানিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সালেহেদ্দিন এবং আলেপ্পোর দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। সকাল হতে না হতেই সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার নিয়ে সেখানে অভিযান চালানো অব্যাহত রেখেছে। আলেপ্পোর বেশ কিছু এলাকা এখনও বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। সেসব এলাকা দখল করে নেয়ার জন্যই আসাদ বাহিনী জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেনাবাহিনী সারা রাতই অভিযানের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন এলাকা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আসাদ বাহিনীর এ অভিযানের সমালেচানা করলেও এ ধরনের অভিযান থেকে পিছু হটার কোন ইঙ্গিতই পাওয়া যায়নি। বরং তারা আরও উদ্যমী হয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আলেপ্পোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী দামেস্কেও আসাদ বাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার সেখানকার ফিলিস্তিন শিবিরে নিরাপত্তা বাহিনীর তিনটি মর্টার নিক্ষেপের কারণে ২০ জন নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার হোমস এবং ইডলিবে মুসলিম ব্রাদারহুড নিজস্ব মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেছে বলে এক রিপোর্টে জানা গেছে। ব্রাদারহুডের এক সদস্য আবু হামজা নিজেকে মুসলিম ব্রাদার হুডের সশস্ত্র যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, সরকারবিরোধী জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের পাশাপাশি তাদের গ্রুপও কাজ করতে শুরু করেছে। সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেয়ার সময় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন সিরিয়াতে যে ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের সহিংসতা অবশ্যই তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে শুক্রবার সিরিয়ার বিরুদ্ধে আনা নিন্দা প্রস্তাবের সমালোচনা করে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত ভিতালি চারকিন বলেছেন, এ নতুন অপ্রয়োজনীয় প্রস্তাব সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিদ্রোহীদের প্রতি সুস্পষ্ট সমর্থন। তিনি বলেন, এ প্রস্তাবের মূল সমর্থকরা সিরিয়ার বিরোধীদের “ভাড়াটে যোদ্ধা এবং অস্ত্র’ সরবরাহ করছে। প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতার নিন্দা জানিয়ে আনা প্রস্তাব সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ ঠেকাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন চারকিন। সাধারণ পরিষদে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকারের শব্দালঙ্কারের আড়ালে এ প্রস্তাবের মাধ্যমে সশস্ত্র বিরোধীদের প্রকাশ্য সমর্থনের বিষয়টি ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, এ প্রস্তাবের সবচেয়ে সক্রিয় সমর্থকরা বিরোধীদের সক্রিয় সমর্থন ও অর্থ দিচ্ছে এবং তাদের ভাড়াটে যোদ্ধা ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিরিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস করা হয়। নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ১৩৩ ভোট এবং বিপক্ষে ১২ ভোট পড়ে। অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরব এ প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করে। ৩১টি সদস্য দেশ ভোট দানে বিরত ছিল। রাশিয়ার পাশাপাশি চীনও এ নিন্দা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। জাতিসংঘে নিয়োজিত চীনের উপরাষ্ট্রদূত ওয়াং মিং বলেছেন এক পক্ষের ওপর চাপ দিয়ে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান করা যাবে না। বরং এতে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সিরিয়ার দূত বাশার জাফারি জাতিংঘের এ প্রস্তাবের মূল উদ্যোক্তা সৌদি আরব, কাতার এবং বাহরাইনকে ক্ষমতান্ধ গোষ্ঠী বলে উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘের ভোটের পর তিনি বলেছেন এ খসড়া প্রস্তাবের কোন প্রভাবই পড়বে না। এটা এক টুকরো কাগজ ছাড়া আর কিছুই নয়।
টেলিভিশনের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি সিরিয়া
আলেপ্পোর উত্তরাঞ্চলের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ সরকারবিরোধীরা দখল করে নিয়েছে বলে কাতারি এবং সৌদি আরবের টেলিভিশনে যে দাবি করা হয়েছিল সেটা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। শনিবার এক রিপোর্টে সিরিয়ান টেলিভিশন বলেছে এসব খবর একেভারেই ভিত্তিহীন। টেলিভিশন রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভাড়াটে সেনারা বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। আর সিরিয়ার সেনাবাহিনী সাধারণ জনগণকে রক্ষার পাশাপাশি হামলার জবাব দিচ্ছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা আসাদের অনুসারীদেরকে হত্যা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফ্রি সিরিয়ান আর্মি (এফএসএ) এক বিবৃতিতে জনসম্মুখে চার ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আমরা এ ধরনের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আর বিপ্লবী সেনা ও যোদ্ধাদের আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানান। এফএসএ জোর দিয়ে বলেছে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড অগ্রহণযোগ্য, বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এটা কোন ভাবেই বৈধ না। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোন ধরনের যোগসাজশ নেই বলে তারা উল্লেখ করেছেন।