|
|
|
-
‘২০৩৬ সালের মধ্যে রাজধানীর সকল জলাভূমি বিলুপ্ত হবে’
আশঙ্কাজনক ভাবে রাজধানী ঢাকার জলাভূমি ও জলাধারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৩৬ সালের মধ্যে রাজধানীতে আর জলাভূমি পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞগণ।
রোববার বিকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় অডিটরিয়ামে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ এবং ইউরোপীয় স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত পরিকল্পনা সপ্তাহ-২০১২ উপলক্ষ্যে আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন ও জলাভূমি সংরক্ষণ শীর্ষক সেমিনারে এই আশঙ্কা করা হয়।
সেমিনারে বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক সারওয়ার জাহান এক গবেষণা পত্রে দেখান জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপকূলবর্তী এলাকার দিন দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার স্বীকার হচ্ছে।একই সঙ্গে এসব এলাকার ভূমি লবনাক্ততার শিকার হচ্ছে। এর ফলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে এসব অঞ্চলের কৃষিজমি তার উৎপাদন ক্ষমতা হারাবে।এতে করে দেশের মোট উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ২৮ শতাংশ হ্রাস পাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বুয়েটের এই পরিকল্পনাবিদ।
অপর এক গবেষণা পত্রে দেখানো হয় রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার জলাভূমি, বন্যা প্রবণ এলাকা ও জলাধারের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।বেসরকারি আবাসন কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী ভূমি গ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন নীতিমালার দূর্বলতাকে দায়ি করা হয় এই গবেষণা পত্রে। এখানে দেখানো হয় ১৯৮৯ সালে রাজধানীতে মোট জলাভূমি ছিল ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ যা ২০০৫ সালের সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০৩৬ সালের মধ্যে রাজধানীতে অবশিষ্ট কোনো জলাভূমি বা জলাধার থাকবে না।
গবেষণাটিতে বলা হয়,জলাধার না থাকায় দিন দিন ভূগভস্থ পানির ওপর ঢাকা ওয়াসাকে নির্ভর করতে হচ্ছে। আর এতে করে প্রতিবছর তিন মিটার করে পানি স্তর কমে যাচ্ছে।
সেমিনারে পরিবেশ আন্দোলন বাংলাদেশের (পবা) সভাপতি আবু নাসের খান বলেন,“ঢাকা কেন্দ্রীক জীবনযাপন ও ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট আবাসন সংকটের জন্য রাজধানীর জলাভূমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে।আর এই ক্ষেত্রে বেসরকারি আবাসন কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফা লাভের জন্য ঢাকার আশপাশের বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো ভরাট করে ফেলছে।এমনকি থাকার নদী ভরাট করতেও বাদ দিচ্ছে না।”
সেমিনারে ওয়ার্ল্ড ফর বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের (ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন,“দেশের ভূমি ব্যবহার নীতিমালা ও ভূমি উন্নয়ন নীতিমালার দুর্বলতার জন্য শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকাই নয় দেশের সকল জলাভূমি ও জলাধার দখল হয়ে যাচ্ছে।এক্ষেত্রে শুধু মাত্র বেসরকারি কোম্পানিই নয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)মতো সরকারি প্রতিষ্ঠাও ভূমি ব্যবহার নীতিমালা অনুসরণ করছে না।এরই মধ্যে তারা ঘোষণা দিয়েছে রাজধানীর চারপাশে স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ করবে।আর এক্ষেত্রে দেখা যাবে ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলাগুলোর জলাভূমি ও কৃষি জমি ব্যবহার করে এসব শহর নির্মাণ করা হবে।”
অনুষ্ঠানে বুয়েটের ইউআরপি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে.এম মনিরুজ্জামানের সঞ্চলনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খৃস্টার এইডের প্রকল্প অফিসার শাহ মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, জাতি সংঘ উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত পরিচালক আবু মোস্তফা কামাল উদ্দিন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ইউনিটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
|
|
|
|