|
|
|
-
চলতি মাসেই দুদকের মামলা ফেঁসে যাচ্ছেন সওজের শতাধিক ব্যক্তি
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) দূর্নীতিবাজ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলতি মাসে মামলা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সওজের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় সওজের একশ`র বেশি ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সওজের দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান কমিটি এরইমধ্যে কমিশনের কাছে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করেছে। কমিশন অনুমতি দিলে চলতি মাসে যে কোনো কর্মদিবসে মামলা দায়ের করা হবে।
সওজের দুর্নীতির অনুসন্ধান কমিটির প্রধান ও দুদকের উপ পরিচালক বেলাল হোসেন মঙ্গলবার রাতে বাংলানিউজকে বলেন, ``তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই মামলা করা হতে পারে।``
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সওজের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে কমিশনে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে দুদকের অনুসন্ধানী টিম। প্রতিবেদনে শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ``দুদক সওজের যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে তাদের অনেকেই আতঙ্কে আছেন। কার কার নামে মামলা হচ্ছে তারা খোঁজ নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কমিশন এ পর্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে চলেছে। অনেকেই রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে কমিশন তারা নিজেদের রক্ষা করতে নানাভাবে তদবির শুরু করেছেন।``
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সওজের দুর্নীতি অনুসন্ধানে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত চালায় এ অনুসন্ধান কমিটি। এ কমিটি গত তিন বছরে (২০০৯-২০১১) সওজের সারাদেশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ছয় শতাধিক প্রকল্প চিহ্নিত করে। এসব প্রকল্পে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম পায় কমিটি।
জানা যায়, দেশের ৬৪ জেলার কালভার্ট নির্মাণ, প্রতিরক্ষাবাঁধ ও সড়ক সংস্কার-সংক্রান্ত ৭৬৮টি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অসংখ্য অভিযোগ আসে দুদকে। সওজের এসব দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন গত ৯ অক্টোবর দুদকের উপ পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে এ কমিটিতে রয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম ও মো. রওশন আলম।
দুদকের প্রতিবেদনে ওঠে আসে এসবের কোনো কোনো প্রকল্পে এক লাখ টাকারও কাজ না করে বরাদ্দের ১৫ লাখ টাকাই তুলে নিয়েছেন ঠিকাদাররা। এ অবৈধ তৎপরতায় সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা। অনেক প্রকল্পে কোনো কাজ না করেই বরাদ্দের সমুদয় টাকা তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি।
এরইমধ্যে ঢাকা বিভাগের ছয়টি জেলার কালভার্ট, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও সড়ক সংস্কারের ৭২টি প্রকল্প তদন্ত করে ২৪টিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে।
এসব প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে কমিশনে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে দুদকের অনুসন্ধানী টিম। প্রতিবেদনে শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়।
|
|
|
|