তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি এবং স্থল সীমান্ত চিহ্নিতকরণ চুক্তি খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশকে ফের এ আশ্বাস দিয়েছে ভারত। সম্প্রতি ঢাকা সফরে গিয়ে ভারতের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এ আশ্বাসের কথা জানিয়েছেন। ঢাকা থেকে ফিরে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জয়রাম রমেশ জানান, তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা তাকে জানানো হয়েছে। দু’টি বিষয়েই ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খুব শিগগিরই এ দু’টি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি জানানোয় তা আটকে রয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন বলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানিয়েছেন। তিস্তার পানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও উদ্বেগগুলোও মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমান্ত চিহ্নিতকরণ চুক্তি প্রসঙ্গে জয়রাম জানিয়েছেন যে, সংসদের বর্তমান অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন করার ব্যাপারে ভারত আশাবাদী। গত মাসে দিল্লিতে দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন করতে দেরি হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। জয়রাম রমেশ তার বাংলাদেশ সফরকে খুবই ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করে জানান, তিনি ঢাকা থাকাকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, জয়রাম নারীদের ক্ষমতায়ন শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা গেলেও তার এই সফরের আসল উদ্দেশ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সে কথা জানানো। রমেশ জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে বাংলাদেশ ভারতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। মদ ও সিগারেট ছাড়া সব পণ্যের ওপর থেকে ভারত শুল্ক তুলে নিয়েছে বলে তিনি জানান।