প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুন। সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা এবং সমাজ, দেশ ও জনগণের প্রতি সাংবাদিকদের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। সুতরাং এমনভাবে খবর প্রকাশ করা উচিত নয়, যাতে দেশ ও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মূল্য দিতে হয়। গতকাল সকালে তার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সাংবাদিকদের পরিবার এবং অসুস্থ ও দুস্থ সাংবাদিকদের সহায়তাকল্পে চেক হস্তান্তরকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিকৃত ও ভুল তথ্যের কারণে যে ক্ষতি হয় তা পূরণ হয় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকরা বিষয়টি মাথায় রেখে খবর প্রকাশ করবেন। শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও জোর দেন এবং এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিসেবীদের পাশাপাশি তারাও এ ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, তথ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদউজ জামান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান, প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক ইহসানুল করিম এবং বিএফইউজে, ডিইউজে ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা।
এর আগে বিএফইউজের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজে সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। অনুঠানে নিহত ১৩ সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকার চেক দেয়া হয় এবং অসুস্থ ও দুস্থ ৪৮ জন সাংবাদিকের প্রত্যেককে দেয়া হয় ৫০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী দেখতে চায়, তবে স্বাধীনতার সঙ্গে অবশ্যই দায়িত্বশীলতাও থাকতে হবে।
শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের কল্যাণে অষ্টম ওয়েজ বোর্ড গঠনের কথাও উল্লেখ করেন।
নিহত যেসব সাংবাদিকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে তারা হলেন— বিভাষ চন্দ্র সাহা, সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি, পথিক সাহা, গৌতম দাস (ফরিদপুর), হারুনুর রশিদ, মানিক চন্দ্র সাহা, শেখ বেলালউদ্দিন (খুলনা), দীপঙ্কর চক্রবর্তী (বগুড়া) এবং শামছুর রহমান ও জামালউদ্দিন (যশোর)।