চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৪৩৭। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে খেলাপি ঋণবিষয়ক
৩২ হাজার ৪৪০টি মামলা বিচারাধীন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান।
এ ছাড়া মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দার পরও চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে। সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ সুনিয়ন্ত্রিত ও বাজেট প্রাক্কলনের সীমার মধ্যে রয়েছে। ২৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকার বিপরীতে ১০ জুন পর্যন্ত সরকার ঋণ নিয়েছে ২২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।
বিএনপির সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানুর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ব্র্যাক ব্যাংকে। বেসরকারি এ ব্যাংকের ২৯ হাজার ২০৩ জন গ্রাহক ঋণ নিয়ে নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দেননি। এর পরই আছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। এর ২০ হাজার ৫ জন গ্রাহক ঋণখেলাপি হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের ৭ হাজার ৯২৩ জন, জনতা ব্যাংকের ৪ হাজার ৯৪১, রূপালীর ৩ হাজার ৯১৪, সোনালীর ৭ হাজার ৭৮১, কৃষি ব্যাংকের ৭ হাজার ৭৪, বেসিক ব্যাংকের ২৩৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ৩৮২, এবি ব্যাংকের ৯৮৪, ইসলামী ব্যাংকের ৮৪৫, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯৩০, সিটি ব্যাংকের ২ হাজার ৫৫৬, আইএফআইসির ১ হাজার ৭৮, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ২ হাজার ৪১৮, পূবালীর ৪ হাজার ৪১৪, উত্তরার ২ হাজার ৬১, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৭৬৭, ইস্টার্ন ব্যাংকের ২ হাজার ২৩০, এনসিসি ব্যাংকের ৭৯৩, প্রাইম ব্যাংকের ২ হাজার ৬৭৯ ও সাউথ ইস্ট ব্যাংকের ৫০৫ জন ঋণখেলাপি হয়েছেন।
এ ছাড়া ঢাকা ব্যাংকে ২ হাজার ৮৬১ জন, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৩৩৯, ডাচ্-বাংলার ৩৩২, মার্কেন্টাইলের ১ হাজার ৭৫, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৫৬, ওয়ান ব্যাংকের ৯০২, এক্সিম ব্যাংকের ৯৬, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৬৭৫, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১৬৭, প্রিমিয়ারের ১ হাজার ৩৬৮, ফার্স্ট সিকিউরিটির ৯৯, ব্যাংক এশিয়ার ১ হাজার ২২০, ট্রাস্ট ব্যাংকের ৩২৫, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১২২, যমুনা ব্যাংকের ১১০, আল-ফালাহ ব্যাংকের ৫, এইচএসবিসির ২৩০, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৮ হাজার ৪৬১, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ১৭, হাবিব ব্যাংকের ৭, সিটিব্যাংক এনএর ৩, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ২৬, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৩১ এবং উরি ব্যাংকের পাঁচজন গ্রাহক খেলাপি হয়েছেন বলে সংসদে জানান অর্থমন্ত্রী।
মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম দিকে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। কৃষি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের ভর্তুকির কারণে মূলত এ ব্যয় বাড়ে। ব্যয় মেটাতে সরকার তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়। ফলে সুদের হার বেড়ে যায়। এ কারণে ব্যক্তি খাতে ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমে আসে। এ ছাড়া টাকার বিনিময় হার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংযত মুদ্রানীতি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু পদক্ষেপের কারণে আমদানি ও রফতানি খাতে অনেকটা ভারসাম্য আসে। অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসদ্রব্যের আমদানি নিরুত্সাহী করায় কমে আসে আমদানি।
সরকারের রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, গত তিন বছরে সরকার রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করে। ফলে রাজস্ব আয় বেড়েছে। এ কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে করসেবা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গ্রোথ সেন্টারসহ উপজেলা পর্যায়ে গ্রোথ সেন্টার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।