-
বেসামাল যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী
শ্রাবণের বৃষ্টিস্নাত দিনে বেসামাল যানজটে গতকাল স্থবির ছিল রাজধানী ঢাকা। যানাহনের সঙ্কট আর দীর্ঘ যানজটে পড়ে নাকাল হয়েছেন মানুষ। প্রায় সব সড়কেই যানবাহন প্রায় অচল অবস্থায় ছিল। চলেছে থেমে থেমে। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, দয়াগঞ্জ ও গুলিস্তান এলাকায় থৈথৈ পানিতে সয়লাব রাস্তায় বাস কার্যত দীর্ঘ সময় একই স্থানে অবস্থান করে। এতে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। বনানী, মহাখালী, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, পান্থপথ, শাহবাগ এলাকায় দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট। যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশ জানায়, রোজার আগে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও রাস্তায় নেমেছে মানুষ। এতে একদিকে হাজার হাজার গাড়ি, অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে যানবাহনের শ্লথ গতিতে পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে। প্রতিটি গাড়িকে একেকটি পয়েন্ট পার হতে ৩ থেকে ৫টি বা তারও বেশি সিগন্যালে পড়তে হয়।
যানজটের পাশাপাশি নগরীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মৌচাকসহ বেশ কিছু সড়কে ছিল জলাবদ্ধতা। গতকাল ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৫১ মিলিমিটার। এই ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা নাজুক পরিস্থিতি তৈরি করে।
মুগদার বাসিন্দা আবু জাফর জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে গতকাল সকাল ৯টায় উত্তরা রওনা দেন। মুগদা থেকে বাসে উত্তরা যেতে সময় লাগে তার প্রায় ৩ ঘণ্টা। খিলগাঁও রেলক্রসিং, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, নর্দা, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় তাকে প্রতিটি পয়েন্টে ৩ থেকে ৫টি সিগন্যালে পড়তে হয়। মালিবাগ বাজার এলাকায় ওয়াসা রাস্তা খনন করছে। এতে সেখানে রাস্তা সঙ্কুচিত হয়ে এক লেনে নেমে এসেছে। মালিবাগ রেলক্রসিংয়ের ওই সিগন্যালটি পার হতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগছে। নর্দা এলাকায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখেও ছিল ভয়াবহ যানজট। কুড়িল বিশ্বরোড রেলক্রসিং সিগন্যালের জ্যাম বিস্তৃত হয় নর্দা হয়ে নতুন বাজার পর্যন্ত।
উত্তরা থেকে শাহবাগে যান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইমরান হোসেন। তিনি জানান, উত্তরা থেকে খিলক্ষেত, কুড়িল, বনানী রেলক্রসিং, মহাখালী, বিজয়সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার ও শাহবাগে তাকে দীর্ঘ সময় যানজটে পড়তে হয়। হোটেল রেডিসনের সামনে থেকে শুরু করে শাহবাগ পর্যন্ত পুরোটাই ছিল ভয়াবহ যানজট।
ডেমরার বড়ভাঙা এলাকা থেকে মোহাম্মদপুরে যান খালিদ হোসেন। তিনি জানান, যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার প্রকল্প এলাকায় এমনিতেই সড়কের নাজুক অবস্থা। কাজলা থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত রাস্তার পুরোটাই কাদাপানি আর আবর্জনা ও গর্তে সয়লাব। এই অংশটুকু হেঁটেও পার হওয়ার উপায় ছিল না। প্রায় একঘণ্টা সেখানে যানজটে পড়ে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেটের জ্যামে পড়ে মোহাম্মদপুর পৌঁছতে তার সময় লেগে যায় প্রায় ৪ ঘণ্টা।
সদরঘাট থেকে কারওয়ানবাজারগামী যাত্রী মেহেদী জানান, সদরঘাট থেকে গুলিস্তান আসতেই সময় লেগে যায় দুই ঘণ্টা। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় নেমে গাড়ি পাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়ে। তার ওপর ভয়াবহ জ্যাম।
মিরপুর থেকে সদরঘাটের মধ্যে যাতায়াতকারী বিহঙ্গ পরিবহনের বাসচালক মনসুর জানান, সদরঘাট থেকে মিরপুর যেতে একঘণ্টার জায়গায় গতকাল সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি সময়। একই রকম তথ্য জানালেন মোহাম্মদপুর শনিরআখড়ার মধ্যে যাতায়াতকারী ১২ নম্বর রুটের বাসচালক হেমায়েত উদ্দিন। তিনি বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যাত্রাবাড়ী এলাকায় যানজটের কারণে তারা টিকাটুলী থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছেন। এপরও একেকটি ট্রিপে তাদের দুই থেকে ৩ গুণ সময় ব্যয় হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট কামরুজ্জামান জানান, রাস্তা এমনিতেই খানাখন্দে ভরা। তার ওপর বৃষ্টির কারণে গাড়ির গতি কমে যায়। এতে গাড়িগুলো চলে ধীর গতিতে। প্রতিটি গাড়িকে ৩ থেকে ৫ বার পর্যন্ত সিগন্যালে পড়তে হয়।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, কুড়িল ফ্লাইওভার, মিপুরপুর-বিমানবন্দর রোড ফ্লাইওার, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার প্রকল্প এলাকায় নির্মাণকাজ চলছে। এতে সেখানে রাস্তা সরু হয়ে যানজট বেড়েছে। এছাড়া আগামী শনি বা রোববার থেকেই রোজা। এ সময় যানবাহনের বাড়তি চাপ পড়েছে রাস্তায়।
|