|
|
|
-
নতুন করে ইরানের ৫০টি তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা
পারস্য উপসাগরে চালকবিহীন (রোবটচালিত) ডুবোজাহাজের বহর মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্যোগ মুহূর্তে জলমাইন ডুবিয়ে রাখা কৌশলগত হরমুজ প্রণালী থেকে ইরানকে মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এ উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে আমেরিকা নতুন করে ইরানের ৫০টি তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এওআর নামের পঞ্চম নৌবহরে ‘সিফক্স’ নামে মার্কিন ড্রোন সর্বশেষ মোতায়েন হওয়ার ঘটনা। একজন মার্কিন নৌ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, এ নৌবহরটি একইসঙ্গে পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত। একই সময়ে এটি দু’দিকেই অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
টাইমস নিউজের বরাত দিয়ে ডন জানিয়েছে, বহরটিতে রোবটচালিত এ জাহাজ প্রায় চার ফুট দীর্ঘ। জাহাজ থেকে কেবল নিয়ন্ত্রিত একটি ক্যামেরা এবং শব্দ গ্রহণকারী ডিভাইস এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জার্মান ম্যানুফেকচারার অ্যাটলাস ইলেকট্রনিক জানিয়েছে, মাইনবিধ্বংসী বিস্ফোরক নিয়ে এসব রোবটচালিত ডুবোজাহাজ সমুদ্রের প্রায় ৩ হাজার ২০০ ফুট গভীরে যেতে সক্ষম। ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় চল্লিশ শতাংশ তেল পরিবহন করা হয়। এটি বিশ্বের তেল বাণিজ্যের পঞ্চম সমুদ্রপথ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তেহরানের তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দেয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে চলছে। ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে অন্তত ২ হাজার সমুদ্রপথের মাইন এবং পঞ্চাশেক সাবমেরিন রয়েছে। মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে, ইরান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে যে কোনো মুহূর্তে এসব মাইন ব্যবহার করতে পারে। এদিকে, ইরানের তেল রফতানি সক্ষমতা প্রতিহত করতে তেহরানের আমদানিকারক ৫০টি কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পরমাণু সক্ষমতা অর্জন এবং ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রতিরোধ করতে এটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপ।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানিকে (এনআইটিসি) চিহ্নিত করেছে। এর প্রায় ৫৮টি জাহাজসহ আরও ২৭টি সমর্থক জাহাজ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ধারণা করছে, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধ এড়াতে কোম্পানিটি তার এ জাহাজগুলোকে ছদ্মনামে বা অন্য নামে ব্যবহার করে তেল রফতানি করতে পারে। এছাড়া ওয়াশিংটন ইরানের রাষ্ট্র সমর্থিত সামনের সারির আরও চারটি তেল কোম্পানি শনাক্ত করেছে। এ কোম্পানিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য কোম্পানি ও রাষ্ট্রগুলোকে দেশটির তেল আনতে সহযোগিতা দিতে পারে। ওবামা প্রশাসন মনে করছে, নতুন করে এ পদক্ষেপ তেল বিক্রিতে ইরানের সক্ষমতায় যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে।
|
|
|
|